জিওফ্রি চসার (১৩৪৩-১৪০০) ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি ছিলেন। নিজের সময় থেকে তিনি এগিয়ে ছিলেন, তাকে অনেকেই ইংরেজি সাহিত্যের জনক বলে থাকেন। শেকসপিয়রেরও জন্মের আগে চসার ইংরেজি ভাষাকে আধুনিকিকরণ করেছেন। সহস্র শব্দ যোগ করেছেন। ফরাসী ও ইতালীয় প্রভাব বলয়ের বাইরে ইংরেজিকে তিনি সাধারণ লোকের ভাষার নিকটবর্তী করেছিলেন। ফলে তিনি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে আজকের দিনে চসারের ইংরেজি বোধগম্য নয়, আধুনিক ইংরেজিতে তা অনূদীত হয়ে থাকে এবং তারপরও চসার জনপ্রিয়।
চসারের উদাহরণটা এই কারণে দিলাম যে, জনপ্রিয় আর ধ্রুপদী সাহিত্যের একটা গোপন কোন্দল চলতেই থাকে। সেই কোন্দলে চসার, শেকসপিয়র, হোমারগণ একেকজন উজ্বল ব্যতিক্রম। তারা তাদের সময়ে যেমন...
থার বলল, আম্মু আমি রেডি। আমার ব্যাগ গোছানো শেষ। আমার মাত্র দুইটা ব্যাগ হয়েছে।
বাবা হেসে বললেন, এত জামাকাপড় দিয়ে কী করবে? আমরা কক্সবাজারে থাকবো তো দু’দিন।
মা বললেন, ওকে নিতে দাও। মন খারাপ করে দিও না।
বাসায় পোষা বিড়ালটা ওদের চারপাশে ঘুরঘুর করছিল। সবাই রেডি হচ্ছে। ব্যাগ গোছানো হচ্ছে। সেখান থেকে পিটান একটুও নড়ছিল না। বিড়ালটার নাম পিটান। বিড়ালটা বিরক্তই করছিল একরকম। মা বললেন, অ্যাই পিটান, এখান থেকে যা তো। ইথার বলল, আম্মু ওকে আমরা সঙ্গে নিয়ে যাই?
মা হাসেন। বলিস কী তুই! ওকে কে দেখবে?
বাবা একটু রাগ করে বললেন, ওকে নিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, ওকে এই মুহূর্তে পিটুনি দেওয়া দরকার। দেখছিস না তোর মাকে কেমন বিরক্ত করছে!
ইথার আস্তে আস্তে বলল, তাহলে তোমরা দুজন ঘুরে আসো। আমি আর পিটান বাসায় থাকি।
মা বললেন, এত ছোটো মানুষকে কি বাসায় রেখে যাওয়া যায়?
আমি আর ছোট নেই। ক্লাস ফোরে পড়ি। বাসার সব কাজ করতে পারি।
ইথারের এ কথা শুনে বাবা চোখ রাঙালেন।
শুক্রবার ভোরবেলা ওরা কক্সবাজার পৌঁছাল। রেলস্টেশন দেখে বাবা খুব খুশি! মাও খুশি হলেনÑ কী সুন্দর স্টেশন!
সমুদ্রের কাছাকাছি একটা হোটেলে উঠেছে ওরা। খুব আনন্দ করছে। দুপুরের দিকে সমুদ্রে নেমেছিল সবাই। প্রথমে ইথার অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকেছে সমুদ্রের দিকে। এই প্রথমবারের মতো সমুদ্র দেখছে সে। বলল, আম্মু, এটা আমাদের দেশ না বিদেশ?
মা হাসেন। বলেন, আমাদের দেশটিও অনেক...
আমেরিকা বাংলাদেশ থেকে ভৌগোলিকভাবে পশ্চিম দিকে। সুতরাং আমার পশ্চিমযাত্রা বলতে কেউ যদি আমেরিকা যাত্রা ধরে বসেন, তাহলে সেটাকে ভুল বলা যাবে না। আবার সত্যিও বলা যাবে না। কারণ আমি কোনোদিন আমেরিকায় যাইনি এবং কখনো যাব এমন কোনো সম্ভাবনাও নেই। আসলে ঘটনাটা সত্যিও নয়, ভুলও নয়--আবার একই সাথে কথাটা সত্যি এবং একই সাথে ভুলও।সোজা কথায় বলি। আমি একজন লেখক। দলিললেখক নই, সৃজনশীল ধারার লেখক। দলিল লেখায় নগদ টাকা মেলে, সৃজনশীল লেখকরা টাকা কামানোর আশায় লেখা শুরু করেন না। আসলে লেখা শুরুও করা হয় না, বরং শুরু হয়েই যায়। নিজের অগোচরে, অদৃশ্য এক তাড়নায়। সে তাড়নার গালভরা নাম সৃজনশীলতা। আবার সৃজনশীলতা তার প্রকাশ চায়, যেটাকে বলে আত্মপ্রকাশ। মানুষের মাঝে নিজেকে অনন্যরূপে প্রকাশ।আত্মপ্রকাশের তাড়নায় সৃজনশীলতার স্বতঃস্ফূর্ত স্ফূরণ মানুষকে কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী হিসেবে সাধারণ্যের মাঝে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতিই স্বাভাবিক প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে সৃজনশীলদের চেতনায়, মন মানসিকতায়। সুতরাং আমার পশ্চিমযাত্রার পেছনে ভূমিকা রয়েছে এই সৃজনশীলতার।ছোটবেলা থেকেই ক্লাসের বাইরে গল্প-উপন্যাসের পাঁড় পাঠক ছিলাম। ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় অন্যান্য বইয়ের সাথে মাসুদ রানাও পড়েছিলাম। এবং এর পর থেকে পড়তে থাকলাম। ধ্বংসপাহাড়, ভারতনাট্যম, স্বর্ণমৃগ, অকস্মাৎ সীমান্ত, মূল্য এক কোটি টাকা মাত্র। এক একটা নাম কী কাব্যিক, কী হিরন্ময়! এর আগে অবশ্য দস্যু বাহরাম টাহরামও পড়েছিলাম। কিন্তু মাসুদ রানা সিরিজের বইগুলো একটানে যেন মাটি থেকে পাহাড়ের চুড়োয় তুলে...
শিশির ভট্টাচার্য্য একাধারে একজন ভাষাবিজ্ঞানী, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ব্যাকরণচর্চা নিয়ে কাজ করছেন। তবে ব্যাকরণচর্চার বাইরেও বর্তমানে বাংলা ভাষার সংকট, বাংলার প্রচার-প্রসার ও উৎকর্ষের বিষয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ লিখে চলেছেন। প্রতিটি লেখায় যুক্ত করছেন ভাষার বিকাশ ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও রাষ্ট্রের করণীয়কে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে অধ্যাপনা করছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো : যা কিছু ব্যাকরণ নয়, বাংলা ভাষা প্রকৃত সমস্যা ও পেশাদারী সমাধান, অধিবর্ষে ভাষা ভাবনা ইত্যাদি। সাড়ে তিন দিনের পত্রিকার পক্ষে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমিরুল আবেদিন
আপনাকে আমরা ভাষাবিজ্ঞানী চিন্তক বলেই অনেক বেশি চিনি। আপনার দীর্ঘ কর্মজীবনে...
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৬ সালে। তিনি একাধারে একজন প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ, সমাজ বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই কলম ধরেছেন। সমাজ-রাজনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখির জন্য তিনি সুপরিচিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে বাঙালি কাকে বলে, রাষ্ট্র ও সংস্কৃতি, বাঙালীর জাতীয়তাবাদ, সাহিত্যের অন্তর্জগৎ, রবীন্দ্রনাথ কেন জরুরি, অন্বেষণ। সাড়ে তিন দিনের পত্রিকার জন্য সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মার্যিউর রহমান চৌধুরী
আপনি অতীতে বহুবার বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও এ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আর এই মুক্তির জন্য সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রয়োগের তাগাদাও দিয়ে এসেছেন। বিষয়টিকে যদি সবিস্তারে আলোচনা করেন।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী...
শিশির ভট্টাচার্য্য একাধারে একজন ভাষাবিজ্ঞানী, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ব্যাকরণচর্চা নিয়ে কাজ করছেন। তবে ব্যাকরণচর্চার বাইরেও বর্তমানে বাংলা ভাষার সংকট, বাংলার প্রচার-প্রসার ও উৎকর্ষের বিষয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ লিখে চলেছেন। প্রতিটি লেখায় যুক্ত করছেন ভাষার বিকাশ ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও রাষ্ট্রের করণীয়কে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে অধ্যাপনা করছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো : যা কিছু ব্যাকরণ নয়, বাংলা ভাষা প্রকৃত সমস্যা ও পেশাদারী সমাধান, অধিবর্ষে ভাষা ভাবনা ইত্যাদি। সাড়ে তিন দিনের পত্রিকার পক্ষে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমিরুল আবেদিন
আপনাকে আমরা ভাষাবিজ্ঞানী চিন্তক বলেই অনেক বেশি চিনি। আপনার দীর্ঘ কর্মজীবনে...
থার বলল, আম্মু আমি রেডি। আমার ব্যাগ গোছানো শেষ। আমার মাত্র দুইটা ব্যাগ হয়েছে।
বাবা হেসে বললেন, এত জামাকাপড় দিয়ে কী করবে? আমরা কক্সবাজারে থাকবো তো দু’দিন।
মা বললেন, ওকে নিতে দাও। মন খারাপ করে দিও না।
বাসায় পোষা বিড়ালটা ওদের চারপাশে ঘুরঘুর করছিল। সবাই রেডি হচ্ছে। ব্যাগ গোছানো হচ্ছে। সেখান থেকে পিটান একটুও নড়ছিল না। বিড়ালটার নাম পিটান। বিড়ালটা বিরক্তই করছিল একরকম। মা বললেন, অ্যাই পিটান, এখান থেকে যা তো। ইথার বলল, আম্মু ওকে আমরা সঙ্গে নিয়ে যাই?
মা হাসেন। বলিস কী তুই! ওকে কে দেখবে?
বাবা একটু রাগ করে বললেন, ওকে নিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, ওকে এই মুহূর্তে পিটুনি দেওয়া দরকার। দেখছিস না তোর মাকে কেমন বিরক্ত করছে!
ইথার আস্তে আস্তে বলল, তাহলে তোমরা দুজন ঘুরে আসো। আমি আর পিটান বাসায় থাকি।
মা বললেন, এত ছোটো মানুষকে কি বাসায় রেখে যাওয়া যায়?
আমি আর ছোট নেই। ক্লাস ফোরে পড়ি। বাসার সব কাজ করতে পারি।
ইথারের এ কথা শুনে বাবা চোখ রাঙালেন।
শুক্রবার ভোরবেলা ওরা কক্সবাজার পৌঁছাল। রেলস্টেশন দেখে বাবা খুব খুশি! মাও খুশি হলেনÑ কী সুন্দর স্টেশন!
সমুদ্রের কাছাকাছি একটা হোটেলে উঠেছে ওরা। খুব আনন্দ করছে। দুপুরের দিকে সমুদ্রে নেমেছিল সবাই। প্রথমে ইথার অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকেছে সমুদ্রের দিকে। এই প্রথমবারের মতো সমুদ্র দেখছে সে। বলল, আম্মু, এটা আমাদের দেশ না বিদেশ?
মা হাসেন। বলেন, আমাদের দেশটিও অনেক...